Export & Import.Nazmul stock lot.Garments Lot.Google Adsense Business.Of.Blogger.Youtube.Google Adwords.Web Hosting & Domain,*Hell My Dear Friend How Are You ? I M Nazmul Hassann From Bangladesh Dhaka Skype:nazmul.hassan94 Nimbuzz :-nazmulhassan93 Call:- 01191106887.01685341430.01839373442 www.nazmulgroupltd.com
Showing posts with label স্বপ্নের বিপরীতে তুমি কিন্তু পুরোটা ভালবাসা. Show all posts
Showing posts with label স্বপ্নের বিপরীতে তুমি কিন্তু পুরোটা ভালবাসা. Show all posts

অবাক, ভালবাসা,obak kora valobashar golpo

আমি বড় সাধাসিধা একটা ছেলে। ছোট বেলা
থেকেই বড় হয়েছি কঠিন শাসন ও আদরের
মাঝে। নষ্ট হয়ে যাব এই ভয়ে আমার মা
আমাকে ঘরে আটকে রাখতেন। কখনো বাইরে
বের হতে দিতেন না। যদি কখনো বের হই তো
সেটা আমাদের পরিবারের কারো সাথে।
এখানে একটা কথা আগেভাগে বলে নিই, আমি
আমাদের পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছেলে।
বোধ হয় সেজন্যই সবাই সবচেয়ে আদর করে।

tips-love2.jpg
তা যাই হোক যা বলছিলাম, আমি সবসময়
নিউট্রাল। মানে বুঝলেনতো? কারো আগেও
নেই, কারো পিছেও নেই। তবে কেউ
বিনা কারনে খারাপ ব্যবহার করলে তার
প্রতিশোধ অবশ্য এক সময় নিয়ে নিই।
এমনভাবে নিই যে সে নিজেও
বুঝতে পারে না আমি প্রতিশোধ নিয়েছি।

তবে মানুষটা খুব পছন্দের হলে বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই মাফ করে দিই। যেমন প্রায়ই মাফ
করি আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সাগরকে।
তবে ইদানিং তাকে এড়িয়ে চলছি। আর কত সহ্য
করা যায়? সব কিছুরোতো একটি সীমা আছে!
তবে তাকে এড়িয়ে চলছি তার প্রধান কারন
হলো পাছে তাকে না কষ্ট দিয়ে দিই। এ
ব্যপারে আমি নিশ্চিত, আমি প্রায় সব কিছুরই
প্রতিশোধ নিই। এক সময় যখন তার উপর ক্ষিপ্ত
হয়ে যাবো, তখন হয়তো প্রতিশোধ নেয়া শুরু
করবো; যেটা আমাদের কারো জন্য সুখকর
হবে না। আমি কখনো এর আগে প্রেম করিনি।

প্রেম আসলে কিভাবে করে তাও বুঝি না।
ছেলে মেয়েরা একসাথে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময়
কিভাবে যে পার করে দেয় আমার মাথা ঢুকে না!
এত কথা তারা পায় কোত্থেকে? একবার এক বড়
ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন,
আগে প্রেম কর তারপর বুঝবি কোত্থেকে এত
কথা আসে। হাহ্ প্রেম? ওটা আবার আমি করবো!
এর থেকে আশ্চর্যজনক ব্যপার আর হতে পারে না।

তবে আমার চেহারায় হয়তো আকর্ষন আছে,
যে কারনে প্রথমে কোথাও গেলে মেয়েরা আমার
সাথে নিজে থেকে কথা বলতে এগিয়ে আসে।
অবশ্য, শেষ পর্যন্ত কথাও হয়, বন্ধুত্বও হয়; কিন্ত্ত
প্রেম আর হয় না। হয় না কেন, কে জানে! কিন্ত্ত
এটা দেখেছি, তারা আমাকে খুব বিশ্বাস করে।

কেননা, তারা এমন কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটায়
আমার সামনে যে অন্য কোন
ছেলে হলে হয়তো বা এর কোন বদ সুযোগ
নিয়ে নিতো। আর যাই হোক কোন মেয়ে বন্ধুর
প্রতি আমার কখনো উল্টাপাল্টা আকর্ষন জন্বায়
নি। আচ্ছা, কেনো জন্মায় নি? প্রথম ওর
সাথে দেখা হয় লিফটের সামনে।

ও একাই দাড়িয়ে ছিলো। আমি যখন ওর
পেছনে এসে লাইনে দাঁড়াই ও আমার দিকে মুখ
ফিরিয়ে দু’সেকেন্ডের জন্য চোখে চোখ
রেখেছিলো। ব্যাস, আমার সব কিছু উলটপালট
হয়ে গেলো। এখনো মনে আছে; ওর সেই
চাউনিতে ছিলো কি এক রকম প্রশ্ন, কি উত্তর
যেন খুঁজে পেতে চাচ্ছিলো আমার চোখে। এক
বিশাল আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে ছিলো সে।

এখনো মাঝে মাঝে ভাবলে শিউরে উঠি।
সেদিন আমার আবেগকে পাত্তা দিতে চাইনি।
ভেবেছিলাম মোহ। কত
মেয়ে দেখলে তো ভালো লাগে, সেই রকমই
কিছু হবে হয়তো। কিন্ত্ত টের পেলাম পরে।
সবসময় কিরকম এক অস্থিরতায় যেন ভুগি! বিশেষ
করে প্রতি সন্ধ্যা বেলায় তার কথা মনে হয়।

সন্ধ্যার সময় যখন সূর্য অস্ত যায়, চারিদিক বিসন্ন
করে পাখি ডেকে উঠে ঠিক তখনই তার
কথা মনে পড়ে। তার মাথা নিচু করে কথা বলার
ভঙ্গিমাটা, গালে লাজুক রংয়ের
খেলা চোখে ভাসতে থাকে। ও সবসময়ে ফতুয়া-
জামা পড়ে আসে। যখনই দেখি- সেই ফতুয়াই।
একেক সময় একেক ডিজাইনের; কিন্ত্ত
সেটা ফতুয়া। মজার ব্যপার, তাই না! অবশেষে,
আর সহ্য করতে পারলাম না। ঠিক করলাম
যোগাযোগ করবো। খোঁজ নিয়ে জানলাম
সে আমাদের ইউনিভার্সটিতেই পড়ে।

তবে সিএসই ডিপার্টমেন্টে না,
ফারমাসি ডিপার্টমেন্টে। তবে ব্যপার হচ্ছে,
সে বাঙ্গালী নয়, আফগান! ব্যাস, দমে গেলাম।
বাঙালী মেয়েদের প্রতিই আমার এক ধরনের
বিতৃষ্ণা কাজ করে। আর এতো হচ্ছে খোদ
বিদেশীনী। কতটা উগ্র যে হবে, তাতো খোদাই
ভালো জানেন। কিন্ত্ত, যতবার ওকে দেখি, ওর
ভঙ্গিমা লক্ষ্য করি ততবারই মনে হয় এই মেয়ের
সাথে আমার স্বপ্নের মেয়ের অদ্ভুত ধরনের মিল।

ছোটবেলা থেকেই একটি কাল্পনিক
মেয়েকে প্রেমিকা বানিয়ে নিয়েছিলাম। যার
সাথে আদৌ কোন মেয়ের মিল পাওয়া সম্ভব নয়
বলে ভাবতাম। কেননা, এতোটা ভালো আর
এতোটা নম্র মেয়ে আল্লাহ-
তা’লা পৃথিবীতে নামিয়েছে কিনা সে ব্যপারে আমার
যথেষ্ঠ সন্দেহ ছিলো। কিন্ত্ত
সারা হাবিবিয়া আমার ধারনা পরিবর্তন করা শুরু
করলো। আমিও একসময় ভাবতে শুরু করলাম এই
মেয়েকে ছাড়া আমার চলবে না।

একদিন, ওর ফোন নাম্বার জোগাড় করে মেসেজ
পাঠাতে শুরু করলাম। কিন্ত্ত… কোন রেসপন্স
নেই! আশ্চর্য! এতো মেসেজ পেয়েও কোন মানুষ
চুপচাপ বসে থাকতে পারে বলে আমার
ধারনা ছিলো না। অবশ্য মানুষকে কতটুকুই
বা চেনা যায়! অবশেষে, একদিন সরাসরি ফোন
করলাম।

আহ্, ও আসবে আজকে… আমার সাথে দেখা করার
জন্য। প্রথম প্রথমতো আমার
সাথে কথা বলতে রাজিই হয়নি। বাব্বাহ্ কি ধমক!
“I am not that kind of girl, what you are thinking!” ।
আমিতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
অবশেষে অনেক কষ্টে ওকে রাজি করিয়েছি শুধু
মাত্র দেখা করার জন্য। যেহেতু একই
ইউনিভার্সটির, তবে দেখা করতে সমস্যা কি?
তবে আমি জানি, আমাকে ওর ভালো লাগবে;
কেননা আমি প্রথম শ্রেনীর।

হ্যাঁ, ঐতো ও দাড়িয়ে আছে বনানী বাজারের
নিচ তলায়, যেমনটি আমাদের কথা ছিলো।
আজো ফতুয়া-জামা পড়ে এসেছে। কাঁধে ব্যাগ
ঝুলানো। গাল দু’টো লাল হয়ে আছে। লজ্জায়,
নাকি রেগে আছে? যা হোক,
আমাকে আজকে কথা বলতেই হবে।

নাহলে হয়তো আর কোন দিন বলা হবে না।
ওর কাছে গেলাম। আজকে ভালো করে লক্ষ্য
করলাম, লম্বায় ও আমার গলা সমান। এর
আগে এতো কাছে আসিনি। রজনীগন্ধার
একটি ষ্টিক সামনে এগিয়ে দিলাম। ও অবাক
হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমাকে ইউনিভার্সটিতে দেখেছে অনেকদিন।
বোধহয় আশা করেনি আমিই সেই ছেলে,
যে তাকে উম্মাদের মত ভালোবাসে। ওর ঠোঁট
কাঁপছে। আমি একরাশ আশা নিয়ে ওর সুন্দর চোখ
দু’টোতে আমার দৃষ্টি ফেললাম। কিন্ত্ত… সেকি!
ওর চোখে একরাশ ভয় কাজ করছে!
-“তুমি! ”, প্রায়
ফিসফিসিয়ে ইংরেজীতে বললো।
-“হ্যাঁ।” , আমি গাঢ় কন্ঠে বললাম।
-“কিন্ত্ত, কিভাবে সম্ভব! ” , সারা কোন
কারনে ভয় পেয়েছে। বিস্ফোরিত
চোখে তাকিয়ে আছে।

-“কেন নয়? ” , আমার বুক চিরে যেন হাহাকার বের
হয়ে আসলো। আমি সব ভেবেছি, কিন্ত্ত ও এখন
যা ভাবছে তা কখনো ভাবিনি। আমার চোখ
বোধহয় রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে। কান
দিয়ে মনে হচ্ছে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
-“তুমিতো রোবট! তোমার সাথে সম্পর্ক
হতে পারে না… ” , ও চিৼকার করে বলে উঠলো।
-“শোন… ” , আমি ওকে ধরতে গেলাম। কিন্ত্ত ও
ঝাড়া দিয়ে আমার হাত সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে
পালালো।

দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। হ্যাঁ, আমি রোবট। কিন্ত্ত
তাতে কি? বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর রোবট।
যারা মানুষের মতো ধীরে ধীরে জ্ঞান অর্জন
করতে পারে। যাদের মধ্যে ভালোবাসার
অনুভূতিও বিজ্ঞানীরা সফলভাবে প্রোগ্রামিং
করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্ত্ত ভালোবাসলেই
চলে না, ভালোবাসাকে কাছেও পাওয়া চাই। এ
কথাকি তাদের ভাবা উচিত ছিলো না?

www.facebook.com/onlinebusinessworld

স্বপ্নের বিপরীতে তুমি কিন্তু পুরোটা ভালবাসা

ভালবাসার গল্পবাইরের দিকে তাকিয়ে অনবরত পা নাচাচ্ছে মাইশা। তার পা নাচানোর কারণে টেবিলের উপর রাখা গ্লাসের পানি কাঁপছে, আর তা দেখে অমিতের কলিজাটাও কাঁপছে। মাইশার রিক্টারস্কেলে ১০ মাত্রার এমন কাঁপন দেখে তার ভাবি পায়ে চিমটি কাটে। -আউচ! ভাবি লাগছে তো।-পা নাচাচ্ছিস কেন? দেখ ছেলেটা কিভাবে তাকিয়ে আছে।-এটা আমার অভ্যাস। জানো না মনে হয়! ছেলেকে বাইরে তাকাতে বল।কথা গুলো ফিশফিসিয়ে বললেও মাইশার ইচ্ছে করছে জোরে চেচিয়ে চেচিয়ে বলতে, যাতে ছেলেটা ভেগে যায়। কিন্তু সে পারছে না। দাদি বলেছে বিয়ের কনেদের আসতে কথা বলতে হয়, লাজুক ভাব নিতে হয়। কিন্তু লাজুক ভাবতো দুরের কথা মাইশা পুরো রাগি ভাব নিয়ে বসে আছে। অমিতের দিকে এই প্রথম তাকাল মাইশা।"সে কি! ছেলেটা স্পাইক করে আসছে কেন! বাবাটা যে কি না! জানে আমি এমন গলা ছাঁটা মোরগ মার্কা ছেলে একদম পছন্দ করিনা। তবুও কিভাবে পারলো? নামের সাথে চেহারার কোন মিল নেই!" মনে মনে রাগে গরগর করতে থাকল মাইশা। মাইশা আর অমিতকে কথা বলতে দিয়ে মাইশার ভাবি সরে পরে।অনেকক্ষণ নিস্তব্ধতা! টেবিলে রাখা চিকেন ফ্রাইটার দিকে একবার তাকাল মাইশা। তার খুব পছন্দের। কিন্তু আসার সময় দাদি এও বলে দিয়েছে "বিয়ের কনেদের বরের সামনে খেতে নেই। তোকে সাধলেও খাবি না" "উফ! দাদিটা যে কি! সব কিছুতেই তার পুরনো খেয়াল। এখন সামনে বসা মোরগটাকেই সহ্য করতে হবে"- কিছু বললেন?চমকে উঠে মাইশা! "ছেলেটা কিছু শুনেনি তো!"-নাহ বলিনি।-তা আপনি কিসে পড়ছেন?-বাইও ডাটা দেখেন নি?-হ্যাঁ দেখেছি তো।-তো জিজ্ঞেস করছেন যে?-না আসলে কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আপনার কিছু জানার আছে?-আছে?-জি বলুন-আপনার নামের সাথে আপনার চেহারার মিল নেই কেন?-কি রকম?-এই যেমন নামটা অমিত, আর চেহারা বলছে আমার নাম রকি!-হাহাহাহা! তা অমিতদের চেহারা কেমন হতে হয়?-অমিতদের চেহারা হঠাৎ বৃষ্টি ছবির ফেরদৌসের মত হয় কিংবা হুমায়ুন আহমেদের শুভ্রের মত হতে হয়।-হাহাহা.......মজার তো!-হুম আসলেই মজারমাইশা আবার অন্যমনস্ক হয়ে যায়। তার জীবনটাই কেন যেন মজার হয়ে গেছে। এই যেমন তার বাবা-মা খুব মজা নিয়ে তাকে বিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে টেবিলে রাখা চিকেন ফ্রাইটার মত মনে হচ্ছে তার। সবাই মজা নিয়ে খাচ্ছে আর সে দেখছে।আজ একটা বিরক্তিকর দিন গেছে মাইশার। অমিতকে পছন্দ না হলেও বাবাকে বলেছে হয়েছে। কেন বলেছে তাও জানে না। জানতে ইচ্ছেও করছে না তার, জানতে চাইলেই হয়তো অমিতকে মেনে নেওয়া কষ্ট হবে। মাইশার একটু নাক উঁচু স্বভাব আছে, জগতের কোন কিছুই যেন তার মত করে হয়না। এই যেমন তার দাম্ভিক প্রকৃতির মানুষ পছন্দ অথচ তার আশেপাশের মানুষগুলো সব কেমন জানি "দিলে বড় জ্বালা" প্রকৃতির। সে নিশ্চিত অমিত ছেলেটাও এমন হবে। ছেলেটার মধ্যে এখনো পিচ্চি পিচ্চি ভাব। সে হয়তো কখনও বুঝবে না প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আইসক্রিম খাওয়ার মজা, অমিত হয়তো বুঝবে না তপ্ত গরমে রবীন্দ্র সঙ্গীত মুহূর্তেই সময়টাকে শীতল করে দিতে পারে, হয়তো বুঝবে না বর্ষায় কোন একাকীত্ব নেই বরং হাজার হাজার বৃষ্টির ফোঁটা বন্ধু হয়ে থাকে তোমার অজান্তে, হয়তো......... মাইশার এসব ভাল লাগাকে সবাই উচ্চতর পর্যায়ের পাগলামি ভাবে। মাইশার খুব ইচ্ছে করে ছাদের রেলিং-এ পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে। কিন্তু একবার বসতে গিয়ে যা কেলেঙ্কারি হল। তার দাদি ভেবে বসে সে আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। সেই থেকে সে আর বসে না। তার সব উদ্ভট ইচ্ছে গুলোর সাক্ষী হয়ে থাকে একটা ডায়েরী।ডায়েরীটার দিকে তাকিয়ে সে প্রায়ই ভাবে "এই ডায়েরী ছাড়া হয়তো আর কেউ জন্মায়নি যে চোখের ইশারাতেই বুঝে নিবে সব কিছু। যাকে ভালবাসি বলে চাপিয়ে দেওয়া যাবে নিজের পাগলামি গুলো। ইশ! উপন্যাস পরে আমার মাথা গেছে। সেই বিশেষ মানুষটা যে উপন্যাসের নায়ক হতে হবে এমন তো কোথাও লিখা নেই" এসব ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে।মোবাইলে কলের শব্দে ঘোর কাটে মাইশার।-হ্যালো!-কেমন আছেন?-কে বলছেন?-আমি স্বপ্ন [হাসি]-কিন্তু আমি তো জেগে আছি।-আমি কি ঘুমের স্বপ্নের কথা বলেছি?-ও আপনার নাম স্বপ্ন? তাহলে আমি দুঃখিত। এই নামে কাউকে আমি চিনি না। রাখছি..........-হ্যালো হ্যালো রাখবেন না প্লিজ। আমি অমিত।-আমি জানতাম।-কিভাবে?-ভাবি আপনার নাম্বারটা মোবাইলে সেইভ করে দিয়েছিল-তার মানে আপনি নিতে চান নি?-মানে! ["এই ছেলে কিভাবে জানে এটা!"]-মানে হল আমাদের মোবাইলে অন্য কেউ তখনি নাম্বার সেইভ করে দেয় যখন আমরা নাম্বারটা নিতে চাই না, তাই না?-আপনি তো বড়ই চালাক মানুষ।-জি ["বোকা বউ পেলে সব পুরুষই চালাক হয়"]-এক্সকিউজ মি! বিড়বিড় করে কি বললেন?-না কিছু না। রাখছি ভাল থাকবেন। বিয়েতে দাওয়াত রইল।মনের অজান্তে হেসে দেয় মাইশা। নিজেকে এমন রূপে দেখে একটু অবাকই হল মাইশা।এরই মধ্যে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যায়। গায়ে হলুদের দিন। অমিত তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে। সাদা শাড়ি আর হলুদ পাড়ের একটা শাড়ি পরেছে। হলুদের সাঁজে নাকি মেয়েদের অনেক সুন্দর লাগে। এতটা লাগবে অমিত জানতো না। অমিতের খুব গান গাইতে ইচ্ছে করছে, এটা তো আর সিনেমা না যে নায়ক প্রেমে পরল আর পরের দৃশ্যেই গান শুরু হয়ে যাবে। নাহ গানটা মাইশাকে একাই শুনাবে। যদিও হলুদের অনুষ্ঠানে গাওয়া যেত, কিন্তু এটা একটু বিশেষ গান।গানের আসরের আয়োজন চলছে। মাইশা এক পাশে অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে। হঠাৎ একটা মায়াবী ভরাট কণ্ঠের গান মাইশার কানে ধাক্কা খেল।"আমার ভেতর ও বাহিরেঅন্তরে অন্তরে আছ তুমি হৃদয় জুড়ে"গায়কের দিকে তাকিয়ে মাইশা কি বলবে বুঝে উঠতে পারেনি। অমিত তারই দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে গান গাইছে। এই প্রথম মাইশা লজ্জা পেল। একদম আদর্শ নতুন বউয়ের লজ্জা। তার স্বপ্নের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে এই প্রথম ভাল লেগে উঠল। হয়তো তার প্রিয় গান গাওয়াতে, কিংবা অন্যকিছু। আপাতত এই "অন্যকিছুর" কোন নাম দেওয়া যায় না। বিয়েটা এত দ্রুত হয়ে গেল যে দুইজন দুইজনকে জানার সময়টা পেল না। বিয়ের ঝামেলায় কেউ কাউকে খেয়ালি করতে পারেনি এতদিন। বিয়ের দুইদিন পর। মাইশা, অমিত ও তার বোন গল্প করছে। কিছুক্ষন পর অমিতের ছোট বোন চিৎকার দিয়ে উঠে,-ভাইয়া ভুমিকম্প!-কই না তো।-হ্যাঁ! বিছানা কেঁপে উঠল।ততক্ষণে মাইশা পা নাচানো বন্ধ করে দিল। অমিত মাইশার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলছে, "হ্যাঁ রে। রিক্টারস্কেলে মে বি ১০ মাত্রা হবে"মাইশা আড় চোখে অমিতের দিকে তাকাল। তার খুব হাসি পাচ্ছে। কিন্তু দমে আছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই মাইশা লক্ষ্য করল অমিত তার খুব কেয়ার নিচ্ছে। নতুন পরিবেশে মাইশা যাতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে সেটা নিজ দায়িত্বে খেয়াল রাখছে। মাইশাকে ভাবিয়ে তুলে, "এই ছেলেটা এমন কিভাবে হতে পারে? আমি যেমন ভেবেছি তার বিপরীত।"অনেকদিন পর ডায়েরীতে লিখতে বসে মাইশা। অমিত আসার পর এই প্রথম লিখা। "ছেলেটাকে আজকাল বড্ড বেশি ভাললাগে। একটু পিচ্চি তবুও। এই 'তবুও' র উপর নির্ভর করে কোথাও হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হত কি? হ্যাঁ, ও হয়তো চোখের ইশারায় সব বুঝবে না। আমি না হয় বুঝিয়ে দিব। চোখ দিয়ে যদি সব হত উপর আলা তো আর মুখ দিতেন না" লিখতে লিখতে সে খেয়াল করল সব কিছুতেই তার এই পিচ্চি বরটা চলে আসছে। আর লিখার সাহস পাচ্ছে না।ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে মাইশা। পেছনে অমিত এসে দাঁড়ালো।-কি আমার কথা ভাবছ? হিহি-না তো। তুমি কি ভাবার বিষয়?-আমি স্বপ্নের বিষয় না হলেও ভাবার বিষয়। হিহি-হাসি ছাড়া তুমি কথা বলতে পার না?-নাহ একদম না। তুমি হাসো না বলে কি আমিও হাসব না? দুইজনই মুখ গোমরা করে রাখলে তো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তার উপর কোন অঘটন ঘটলে দেনমোহর তো আমাকেই দিতে হবে তাই না? হিহিমাইশাকে অমিত অবাক করেই চলেছে। হয়তো রুপকথার রাজপুত্রের মত নয়, ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে থাকা সেই কেউ একজনের মত।-মাইশা, তোমার নিশ্চয়ই এখন ছাদের রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসতে ইচ্ছে করছে?এবার মাইশা আকাশ থেকে মাটিতে না পরে, মাটি থেকে যেন আকাশে উঠে পরেছে। কারণ মধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে আকাশে উঠাটাই সব চেয়ে অবাক করার মত কিছু।- তুমি কিভাবে জানো?-ম্যাজিক বুঝলে ম্যাজিক!-তুমি কিছু লুকাচ্ছ!অমিত পেছনে লুকিয়ে রাখা একটা জিনিস বের করল।-আমার ডায়েরী! এটা কোথায় পেলে? আমাকে দিয়ে দাও।-নাহ দিব না। একটা কলম ৫ টাকা বুঝলে? কলম নষ্ট করে ডায়েরিতে না লিখে আমাকে বলা যায় না?-অমিত! আমার ডায়েরী দাও।অমিত নিষ্পাপ চেহারায় ডায়েরী দিতে দিতে বলে, "আচ্ছা এই তবুওর উপর নির্ভর করে কোথাও না হারাও কিন্তু কিছুক্ষণ পাশে বসে থাকা যায় কি?"-আমার সব উদ্ভট বায়নার ধারক হবে তো?মাথা চুলকাতে চুলকাতে অমিত বলল, " আর যাই কর, ছাদের রেলিং এ বসতে বল না প্লিজ। হিহি"-পিচ্চি!খোলা ছাদে বসে আছে দুই জন, মেঘলা আকাশ আর?আর সেই বাকি থাকা গানটা-"বধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায় বিনা কারণেনীল আকাশ থেকে একি বাজ এনেছে হায় বিনা কারণেদিনে দিনে মূল্য বিনেসে যে আমায় নিলো কিনে ।

Pages

bkashwinslider
200

Nazmul Group Limited

love